রক্তাক্ত বাংলাদেশ-লাঞ্ছিত মানবতা


না। ছবিগুলো নিয়ে কিছু বলতে চাই না আমরা

রক্তাক্ত বাংলাদেশ-লাঞ্ছিত মানবতা

“রক্তাক্ত বাংলাদেশ : লাঞ্ছিত মানবতা” শিরনামে জাতীয় যুব পরিষদের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে ও চট্টগ্রাম লালদীঘি পাড় ময়দানে চলছে ২১শে আগষ্ট সহ তৎকালীন জামাত বিএনপি জোট সরকারের নির্মমতার স্থিরচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

না।
ছবিগুলো নিয়ে কিছু বলতে চাই না আমরা। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, নিপীড়ন-নির্যাতনের এ ছবিগুলো আপনার সাথে কথা বলেছে। স্থির হয়ে থাকা চোখের সামনে তুলে ধরেছে তাদের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা।
না।
আপনি যে আলোকচিত্রগুলো দেখেছেন সেগুলো উনিশশো একাত্তর সালের নয়। নির্যাতনের এ আলোকচিত্রগুলো ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নেমে আসা ভয়াল অন্ধকারে তোলা। বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে সারা পৃথিবী যখন শান্তি আর প্রগতির পথে হাঁটা শুরু করেছে, বাংলাদেশকে তখন টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মুখ থুবড়ে পড়া মানবতার এক সামান্য উপস্থাপনা- ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ: লাঞ্ছিত মানবতা’।
না।
কোনো বহিঃরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার এরা নয়। এ আলোকচিত্রগুলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের হিং¯্র, বর্বর আর কুৎসিত নির্যাতনের স্মারক। ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংসতার কথা স্মরণ করলে গা শিউরে ওঠে যে কোনো মানবতাবোধসম্পন্ন মানুষের। নির্যাতিত, নিহত মানুষগুলোর অপরাধ ছিলো, তাঁরা স্বাধীন রাষ্ট্রে নিজেদের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অভিধানে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি অনুপস্থিত। হত্যাকে উৎসব ভেবে তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে। ‘বিভৎসতা’-ই তাদের রাজনৈতিক সৌন্দর্য। বিএনপি-জামাত জোটের কাছে রাজনীতি মানে মিথ্যাচার, সরকার গঠন মানে জনগণ নয়, সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা।
না।
এ আলোকচিত্রগুলো সম্বন্ধে কোনো কথাই ‘জাতীয় যুব পরিষদ’ বলবে না। আমরা বিশ্বাস করি, যে চোখ দিয়ে আপনি এ আলোকচিত্রগুলো দেখেছেন, তা আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না; যে কান দিয়ে আপনি এ ছবিগুলোর কথা শুনেছেন তা আপনাকে প্রতারণা করবে না; যে বিবেককে সঙ্গে নিয়ে আপনি ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ: লাঞ্ছিত মানবতা’র গ্যালারিটি অতিক্রম করেছেন, তা আপনাকে ভুল সিদ্ধান্ত দেবে না।
হ্যাঁ। আপনি ঠিক ধরেছেন।
‘জাতীয় যুব পরিষদ’ বিশ্বাস করে আসন্ন নির্বাচনে আপনার বিবেক, আপনার প্রতিটি ইন্দ্রিয় নিপীড়ন আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে রায় দিবে। আপনি যখন যাবেন ভোটকেন্দ্রে, আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে পূর্ণিমার চোখ ঢেকে রাখা মুখচ্ছবি। সাত বছরের একরত্তি মেয়ে রজুফার বোবা দৃষ্টি। বিএনপি-জামাত জোটের হাতে কখনোই নিরাপদ নয় মানবতা, এ প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই আপনি ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন।
আপনার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ। পাকিস্তানের চোখ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের চোখ দিয়ে বাঙালির মানবতাকে দেখুন। মনে রাখবেন, বিএনপি-জামাত জোট হলো পাকিস্তানি বর্বর দূরবীণে চোখ রেখে চাঁন-তারা মার্কা বেঈমান পতাকা দেখার জোট। এরা বাঙালিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। বাংলাদেশকে পরিণত করতে চায় সন্ত্রাসী আর জঙ্গিগোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে।
তারপরও যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন, আপনার ভুলের কারণে যদি বিএনপি-জামায়াত জোট আবার কখনও ক্ষমতায় আসে, তবে মনে রাখবেন- এখানে প্রদর্শিত ১৩১ টি নির্যাতন-নিপীড়নের ছবির সাথে ১৩২ নম্বর ছবিটি হবে হয়তো আপনারই কোনো প্রিয় মানুষের ক্ষত-বিক্ষত কিংবা মৃত কোনো ছবি।
ভাবুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। আপনি কী নিপীড়ন-নির্যাতন-বর্বরতা আর হিংস্ররতার পক্ষে যাবেন?

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক মানবতার।

About Ehsan Abdullah

An aware citizen..
This entry was posted in BENGALI NATIONALISM, CURRENT ISSUES, IDENTITY & PATRIOTISM, SOCIO-ECONOMY -- Inequality, Poverty, Distribution & Poverty. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s