এবার যুদ্ধরত বাঙালি বিজয় দিবস পালন করল


এবার যুদ্ধরত বাঙালি বিজয় দিবস পালন করল

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

বাংলাদেশের মানুষের এবারের বিজয় দিবস পালনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধরত অবস্থায় তাকে বিজয় দিবস পালন করতে হয়েছে। এটা অনেকে অনুধাবন করতে পেরেছেন কি না জানি না। ৪২ বছর আগে (১৯৭১) তারা যে যুদ্ধটি শুরু করেছিল, সেটি অর্ধসমাপ্ত রয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতালাভের পর বাংলাদেশের মানুষের সেই যুদ্ধটি ক্ষমতার নানা হাতবদলের মধ্য দিয়েও নানা চেহারায় অব্যাহত ছিল। এবার সেটা আবার পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটাই চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে হয়। এই যুদ্ধের ফলাফল দ্বারাই বাংলার ভাগ্য হয়তো আবার দীর্ঘকালের জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।

একাত্তরের যুদ্ধের মতো এবারের যুদ্ধে পক্ষ-বিপক্ষের পরিচয় ও চরিত্র ততটা নির্দিষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষের শিবিরের নেতৃত্ব এখনো অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের হাতে। ১৯৭১ সালেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) লড়াইয়ে অনিচ্ছুক ও ভীত ছিলেন। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ জনতা এবং শক্তিশালী বাম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জোয়ার তাদের সংগ্রামের পথে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিল। তেমনি ২০১৩ সালে সেই যুদ্ধের পুনরাবৃত্তির সময়ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ (শেখ হাসিনা ছাড়া) লড়াইয়ে অনিচ্ছুক, ভীত, অসংগঠিত এবং তাকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাখার কাজে পেছনে শক্তিশালী বাম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জোয়ার নেই। বাম শিবিরে বহু অনৈক্য ও বিভাজন। তেমনি স্বাধীনতার পক্ষের শিবিরেও।

এবারের যুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী শিবিরটি অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংগঠিত। একাত্তরের যুদ্ধে বাংলাদেশের মাটিতে তারা জনবিচ্ছিন্ন ছিল। তাদের সহায়ক শক্তি ছিল পাকিস্তানি হানাদাররা। পেছন থেকে মদদ জুগিয়েছে আমেরিকা, সৌদি আরব এবং তখনকার কমিউনিস্ট চীনও। এবার এই শিবিরের চেহারা একটু পাল্টেছে। একাত্তরে পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশের মাটিতে নিজেরাই হানাদার। এবার তারা পর্দার আড়ালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী শিবিরকে অস্ত্র, অর্থ, বুদ্ধি ও পরিকল্পনা জোগাচ্ছে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার শিবিরের মিত্রপক্ষ ছিল ভারত ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মৈত্রী বলয়। এখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিতে এই বলয়টি নেই। ভারতের ভূমিকা এখনো এই স্বাধীনতার শিবিরের পক্ষে। অন্যদিকে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু প্রভাবশালী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি প্রভাবিত দেশগুলো একাত্তরের ভূমিকায় প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে ফিরে যেতে চাইছে। চীন নিজস্ব ভূরাজনীতির স্বার্থেই এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ। আমেরিকা পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতি, অখণ্ড এশীয় ভূখণ্ডে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী অক্ষুণ্ন রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির চাপে সিরিয়ার মতো বাংলাদেশেও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এগিয়ে আসতে পারছে না। কিন্তু একাত্তরের মতোই বাংলাদেশের ব্যাপারে তার সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী ভূমিকা গ্রহণের ইচ্ছাটি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং তার এই ইচ্ছাটি সে পূর্ণ করতে চাইছে তাদের পালিত বাংলাদেশের একটি সুধীসমাজ দ্বারা। এই সুধীসমাজের দ্বারা প্রভাবিত দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ ও মিডিয়ার একটি বড় অংশ। নিরপেক্ষতার মুখোশে এবং স্বাধীনতার পক্ষের শিবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেছে।

স্বাধীনতাবিরোধী শিবিরের শক্তির ভিত্তি এখানেই। একাত্তরের মতো তারা জনবিচ্ছিন্ন নয়। গত ৪০ বছরে দেশের সামরিক ও স্বৈরাচারী সরকারগুলোর সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রশাসন ইত্যাদি সব কিছুতে তারা দৃঢ় প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সন্ত্রাস ও সংঘাত চলছে, তার চরিত্রের দিকে তাকালেও দেখা যাবে, জামায়াত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের ভেতরে থেকেও লড়াই করছে। প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মোকাবিলায় দুর্বল। সাতক্ষীরা, নীলফামারীর সাম্প্রতিক ঘটনা তার প্রমাণ।

পাকিস্তানে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের অভ্যুত্থান ঘটেছিল ‘মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি’র সমন্বয়ে। বাংলাদেশেও তাদের অভ্যুত্থানের সূচনা একইভাবে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তাতে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কায়েমি স্বার্থ যুক্ত হয়েছে। তাদের কারো গণতন্ত্রের মুখোশ আছে। কারো বাম, এমনকি ধর্মনিরপেক্ষতারও তকমা আছে। ফলে দেশময় বিভ্রান্তি। তাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিপক্ষের শিবিরকে একাত্তর সালের মতো সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না। তারা মসজিদে, মাদ্রাসায়, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে- বিশেষ করে দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে অর্থ ও অস্ত্রের জোরে প্রভাববলয় তৈরি করেছে। যাকে আমার প্রবীণ সাংবাদিক বন্ধু এবিএম মূসা বৃদ্ধ বয়সের ভীমরতির জন্য বলেন মুক্তাঞ্চল। আসলে সন্ত্রাসী দমনে এখানে প্রশাসন সাময়িকভাবে ব্যর্থ, কিন্তু পরাজিত নয়।

এসব প্রভাববলয় থেকে স্বাধীনতার শত্রু শিবিরের সন্ত্রাসীদের দ্রুতই উৎখাত করা যেত। গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার মুখোশ পরা দেশের নব্যধনী ও কায়েমি স্বার্থের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সমাজ এবং তাদের মিডিয়াগুলোর ক্রমাগত প্রচারণায় জনমন বিভ্রান্ত থাকায় সরকারি প্রশাসন একা তা পেরে উঠছে না। এখানেই দরকার ছিল একাত্তরের মতো আওয়ামী লীগ ও বাম গণতান্ত্রিক শিবিরের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এখন সংগঠন হিসেবে সম্পূর্ণ দুর্বল এবং বাম ও গণতান্ত্রিক শিবির বহুধাবিভক্ত ও শক্তিহীন।

মোজাফফর ন্যাপ এখন প্রায় অস্তিত্বহীন এবং যে সিপিবি ১৯৭১ সালে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সহনায়ক, তারা এখন বর্তমানের যুদ্ধ যে অসমপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায় তা বুঝতে না পেরে রণাঙ্গনের পাশে বসে তাত্ত্বিকতার ধূম্রপানে নিরত। কিন্তু এই সন্ত্রাস যে স্বাধীনতার পক্ষের কোনো দলকেই হামলা করা থেকে বিরত হবে না, এ কথাটা দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁর গাড়ি ও অফিস অগ্নিদগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বুঝতে পারছেন না। তিনি নিজের অতিকথায় মুগ্ধ হয়ে অনবরত একটি ডানপন্থী কাগজে কলাম লিখে চলেছেন।

আগেই বলেছি, স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ তথা জামায়াত-শিবির এখন একাত্তর সালের মতো জনবিচ্ছিন্ন নয়। বিএনপির মতো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল রয়েছে তার সঙ্গে। রয়েছে অর্থ ও অস্ত্রের জোরে মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা, বিগ এনজিও ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক বিরাট প্রতিষ্ঠা। ধর্ম তাদের বিরাট হাতিয়ার। তা ছাড়া রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা ছদ্মরূপ। তা সত্ত্বেও চার দশক ধরে অনবরত চেষ্টা চালিয়েও তারা জনসমর্থন অর্জন করতে পারেনি। এখানেই বাংলার সাধারণ মানুষকে বাহবা দিতে হয়।

জামায়াত এখন প্রকৃত অর্থে জনবিচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু জনসমর্থনও তারা অর্জন করতে পারেনি। তারা সন্ত্রাস দ্বারা জনগণকে, নাগরিক সমাজকে ভীত করেছে, কিন্তু সমর্থন আদায় করতে পারেনি। ফলে বিএনপির সঙ্গে মিলে তারা তাদের সরকারবিরোধী তৎপরতাকে যতই হরতাল, অবরোধ নাম দিক, জনগণকে তারা মাঠে নামাতে পারছে না। ট্রেনিংপ্রাপ্ত সশস্ত্র দলীয় ক্যাডার এবং বেকার যুবকদের মধ্য থেকে সংগ্রহ করা ভাড়াটে গুণ্ডা দ্বারা তারা কাপুরুষ তস্করদের মতো নিরীহ মানুষের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। খুন, অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তারপর পালিয়ে যাচ্ছে।

একাত্তর সালেও জামায়াতিরা স্বাধীনতার বিপক্ষে অস্ত্রধারণ করে বলেছিল, এটা ইসলাম রক্ষার যুদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে তারা চালিয়েছিল গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যা। যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান। এবারও তারা দাবি করছে, তাদের যুদ্ধ সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু তারা যুদ্ধ চালাচ্ছে জনগণের বিরুদ্ধে। একাত্তরের মতো একই চেহারা এই যুদ্ধের এবং বর্বরতার। ব্রিটিশ আমলে গত শতকের কুড়ি ও ত্রিশের দশকে অবিভক্ত বাংলায় ‘যুগান্তর’ ও ‘অনুশীলন পার্টি’ নামে দুটি শক্তিশালী ব্রিটিশবিরোধী সন্ত্রাসী দল গড়ে উঠেছিল। তারা ইংরেজ লাট-বড় লাটের গাড়িতে বোমা মেরেছে, ব্রিটিশ শাসকদের দেশি দালালদের হত্যা করার চেষ্টা করেছে। তাদের কেউ কেউ ধরা পড়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছে, কিন্তু এই টেররিস্টরাও কখনো সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়নি। তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো বর্বরতার অনুষ্ঠান করেনি, যা এখন জামায়াতিরা করছে।

সে জন্যই বলছি, ২০১৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার শত্রুপক্ষের শিবির- বিশেষ করে জামায়াত যে তাণ্ডব শুরু করেছে, তা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সংজ্ঞাতেও পড়ে না। তা মানবতাদ্রোহী বর্বরতা। সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এটা অসমাপ্ত স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায়। একাত্তরের মতোই এই যুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করতে হবে। নইলে কেবল প্রশাসনিক শক্তি দ্বারা এই সন্ত্রাসকে সাময়িকভাবে পরাজিত করা যাবে; কিন্তু নির্মূল করা যাবে না।

একাত্তরে আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল। বর্তমানে তা নেই। সুযোগসন্ধানী ও লুটেরা শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা এখন এই দলেও বেশি। আওয়ামী লীগে ডানপন্থী ও জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে আপসপন্থী নব্যধনীদেরও প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দলের অধিকাংশ নেতা ও এমপি জনবিচ্ছিন্ন। নিজেদের নির্বাচন-এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস নেই। এরা আক্রান্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে বর্তমান পরিস্থিতির মোর ঘুরে যেত।

নীলফামারীতে গিয়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের যে এমপি আসাদুজ্জামান নূর, তিনিও বনেদি আওয়ামী লীগার নন। বাম ঘরানার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অভিনয়ের জগৎ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসে যোগ দিয়েছেন। সে জন্য নিজে আক্রান্ত হয়েও প্রাণবাজি রেখে তাঁর আক্রান্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পেরেছেন। যে সাহস আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ও এমপি দেখাচ্ছেন না অথবা দেখাতে সাহসী হচ্ছেন না।

স্বাধীনতার শত্রুদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি সাতক্ষীরায় সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জেনেছি। এটা প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এত দিন এখানে জামায়াত-শিবিরের ভয়াবহ অত্যাচার চলেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা যায়নি। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ওয়ার্কার্স পার্টি। একই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে আওয়ামী লীগকেও একাত্তরের মতো অন্যান্য গণসংগঠনের সহায়তায়।

একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল’। জনযুদ্ধের এই ডাক শেখ হাসিনাকে এবার দিতে হবে। প্রশাসনিক শক্তির সঙ্গে জনগণকে যুক্ত করতে পারলে একাত্তরের পরাজিত শক্তির উল্লম্ফনের বিরুদ্ধে এই যে যুদ্ধ, এই যুদ্ধই দেশের মানুষকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তি টানতে পারবে। অন্যথায় বাংলাদেশ শুধু তার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য হারাবে না, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো কিলিং ফিল্ডে পরিণত করবে।

আরেকটি কথা। অতীতে সাম্রাজ্যবাদের শিখণ্ডী হিসেবে ভূমিকা গ্রহণ করে লিগ অব নেশনসের কী পরিণতি ঘটেছিল। তা আমরা দেখেছি। বর্তমানে আমেরিকার পাপেট জাতিসংঘের পরিণতিও দেখার শুধু বাকি। যে জাতিসংঘের প্রধান গুয়ানতানামোর বন্দিশিবিরে নির্মম নির্যাতন এবং নির্দোষ বন্দি হত্যার নিন্দা জানাতে পারেন না, পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে আমেরিকার অবৈধ ড্রোন হামলায় শয়ে শয়ে নির্দোষ নর-নারীর প্রাণহানি বন্ধ করতে পারেন না, তিনি বাংলাদেশের এক নিষ্ঠুর যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হায়রে নপুংসক বিশ্ব প্রতিষ্ঠান!

একাত্তর সালে যে বিশ্বশক্তি শিবির এবং তথাকথিত বিশ্ব সংস্থাগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, লক্ষ করলে দেখা যাবে, এবারও এই চেনা মুখগুলোরই অধিকাংশকে দেখা যাচ্ছে বিরোধী শিবিরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সময়ও। তাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শিবিরকে ভয় পেলে চলবে না। একাত্তরের যুদ্ধের এই চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শিবিরকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া জয়লাভের দ্বিতীয় পথ নেই।

আমেরিকায় গৃহযুদ্ধে যখন দেশটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে যুদ্ধরত শিবিরটি দুর্বল এবং চারদিক থেকে আক্রান্ত তখন আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমরা দুর্বল হতে পারি, সংখ্যাল্প হতে পারি, কিন্তু এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। নইলে আমেরিকা টিকবে না, গণঅধিকার ও গণতন্ত্র টিকবে না।’

আজ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কণ্ঠে এই ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়া দরকার।

*******************************************
লন্ডন ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস), সোমবার, ২০১৩

KALERKONTHOlogo

About Ehsan Abdullah

An aware citizen..
This entry was posted in ABDUL GAFFAR CHOUDHURY, ANALYSIS OF RESPONSIBILITY & ROLE OF MEDIA, BENGALI NATIONALISM, CURRENT ISSUES, DEFENCE & SECURITY, Friends & Foes - World Reaction, HISTORY OF BENGAL, IDENTITY & PATRIOTISM, INTELLECTUALS Killing - BLUEPRINT, ISLAMIC EXTREMISM, LAW & ORDER, LIBERATION - 1971 BIRTH OF A NATION, Martyrs & Sacrifices, RAZAKARS - Genocide & War Crime Trial - Anti Liberation Forces, REFLECTION - Refreshing our Memories, RELIGION & STATE, RESPONSIBLE CITIZEN & DUTY, SECULARISM. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s