ভেঙে পড়ছে অবরোধ


ভেঙে পড়ছে অবরোধ

৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিনে শান্ত সারা দেশ

১৮ দলের চতুর্থ দফা অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল রাজধানীর রাজপথে যানবাহন চলেছে অনেক। সন্ধ্যায় প্রগতি সরণির দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

আবুল কাশেম

আর কত? দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে মানুষের। প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছে। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে যেন। তাই নষ্ট রাজনীতির ভ্রষ্ট কর্মসূচির ভয় ভেঙে পথে নেমে পড়ছে সবাই যার যার কাজে। এ যেন স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আদায়ের মরিয়া পণ। গতকাল মঙ্গলবার তাই বিরোধী দলের ডাকা অবরোধ উপেক্ষা করে কাজের পথে নামতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। এ চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয়, মোটামুটি সারা দেশেই প্রত্যক্ষ করেছেন আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে টানা হরতাল-অবরোধে কাহিল মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর নানা প্রত্যয়ের কথা।

কথা বলে জানা গেছে, অবরোধের সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচানোর চেয়েও জীবন-জীবিকা বাঁচানোটাই যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। তাই হরতাল-অবরোধে বোমা, গুলি বা পেট্রলবোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে মরার ভয়কে পরোয়া না করে জীবনের তাগিদে কর্মপথে নেমেছে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। সাধারণ মানুষের এই প্রত্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা। ফলে বিরোধী জোটের ডাকা চতুর্থ দফা অবরোধের প্রথম দিন গতকাল ঢাকার রাজপথ ছিল অন্য দশটা দিনের মতোই যানজটে ঠাসা। শহর ঘুরে দেখা গেছে, রাজপথে অন্য দিনগুলোর মতো প্রাইভেট কারও চলেছে অনেক। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার বড় ও দামি বাস না ছাড়লেও ছোট বাসগুলো চলেছে। পাশের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক। এ কারণে সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচলও ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। রেলও ছেড়েছে অন্য দিনগুলোর মতোই। আর ঢাকার পাশের জেলাগুলোর ভেতরের যান চলাচল ও পাশের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্য দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই প্রায় একটানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী জোট। এতে জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে ও নানা রকম আতঙ্কের কারণে এত দিন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ রাস্তায় নামেনি। নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি যাত্রী না পাওয়ার কারণেও ঢাকার ভেতরে যান চলাচল ছিল খুবই কম। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভয়ে ব্যক্তিগত গাড়িও ব্যবহার করেননি মালিকরা। কিন্তু গতকালের অবরোধের চিত্র ছিল পুরোই ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে। একই কথা বলেছেন বাস, ট্রাক মালিক-শ্রমিকরাও। গত কয়েক দিনে হরতাল-অবরোধে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারণে সারা দেশের যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কমে গেছে। এর প্রমাণও মিলছে সংবাদমাধ্যমগুলোয়। টেলিভিশন সংবাদ ও সংবাদপত্রের পাতায় সহিংসতার ভয়াবহতার দৃশ্য কম দেখা গেছে। অবরোধকারীদেরও গতকাল আর আগের মতো রাস্তায় দেখা যায়নি। তাই অবরোধের মধ্যেও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ঘর থেকে বের হওয়ার বাড়তি সাহস পাচ্ছে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামীও অন্য একটি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে চাকরি করছেন। নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনেছি আমরা। কিন্তু অবরোধের মধ্যে এত দিন বের করার সাহস পাইনি। রিকশায় সচিবালয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। গত রবিবার ও মঙ্গলবার হরতাল এবং অবরোধের মধ্যেও আমরা প্রাইভেট কার নিয়েই এসেছি। কারণ, ঢাকায় অবরোধে প্রথম প্রথম যে ভয় ও আতঙ্ক ছিল, এখন সেটা কেটে গেছে। তা ছাড়া এভাবে দিনের পর দিন গাড়ি ফেলে রেখে তো আর চলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই গাড়ি বের করেছি।’

আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য মতে, গতকাল পাটুরিয়া-দৌলতিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রায় সাত শর মতো গাড়ি পারাপার হয়েছে, যেগুলো ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় যাত্রী ও মালামাল আনা-নেওয়া করেছে। অবরোধ ও হরতালের অন্য দিনগুলোর তুলনায় গতকাল বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচলও ছিল অনেক বেশি।

ঢাকার মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মহাখালী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার দামি বাসগুলো ছাড়েনি। কিন্তু গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদীর বাসগুলো চলাচল করেছে অন্য দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিকভাবে। তিনি বলেন, ‘পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা হরতাল-অবরোধ আর সহ্য করতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়েই গাড়িগুলো রাস্তায় নামাচ্ছে। জনগণও স্বাভাবিক যানচলাচল আশা করছে। আমাদের কাছে খবর রয়েছে যে মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা জোটবদ্ধ হচ্ছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ রাস্তায় এসে গাড়ি ভাঙচুর ও আগুনে পোড়াতে না পারে। জনগণই আমাদের গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করছে তাদের প্রয়োজন থেকেই। এর সঙ্গে সরকারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পেলে দূরপাল্লার গাড়িও চলতে শুরু করবে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নৌবন্দর কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অবরোধের প্রথম দিনগুলোতে ঢাকার ভেতরে যানবাহন চলাচল কম থাকায় যাত্রীর অভাবে লঞ্চ চলাচল কমে গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের অবরোধে ঢাকায় যানচলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীও অনেক বেড়েছে, লঞ্চও চলেছে অনেক বেশি। তিনি জানান, স্বাভাবিক দিনে ৭০ থেকে ৭৫টি লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। আরো ১০টি লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধির কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল গাজীপুরের রাস্তাঘাটের ব্যস্ততা দেখলে মনে করার উপায় নেই যে বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। ঢাকা ও পাশের জেলাগুলোর সঙ্গে বাসচলাচলের পাশাপাশি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানও চোখে পড়েছে অন্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সরকার রাসেল বলেন, টানা হরতাল-অবরোধের কারণে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পেটে লাথি পড়ে গেছে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তায় গাড়ি নামিয়েছে তারা। গাড়ি বন্ধ রাখলে একদিকে মালিক ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না, অন্যদিকে শ্রমিকদেরও অর্থকষ্টে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সক্রিয় হয়েছে। ফলে এখন রাস্তায় অবরোধকারীদের আগের মতো আর দেখা যায়নি। এটাও মালিক ও শ্রমিকদের রাস্তায় গাড়ি নামাতে উৎসাহিত করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি আবদুল মোতালেব বলেন, গত দুই সপ্তাহ প্রায় পুরোটাই হরতাল ও অবরোধ ছিল। এতে শিল্প এলাকা গাজীপুরের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল পরিবহন করতে পারেনি। এখন বাধ্য হয়েই তারা যেমন মালামাল পরিবহন করতে শুরু করেছে, তেমনি ট্রাকচালকরাও জীবন বাঁচানোর তাগিদে প্রাণের মায়া ছেড়ে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামছে। আগামীতে হরতাল-অবরোধ এভাবে চলতে থাকলে ট্রাক চলাচল আরো বাড়বে।

আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি তথ্য, বিরোধী দলগুলোর ডাকা আগের হরতাল-অবরোধের দিনগুলোর সঙ্গে গতকাল শহরের চিত্রের মিল ছিল না। যানবাহন চলাচল ছিল খুবই স্বাভাবিক। শহরের ভেতরে ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে পাশের জেলাগুলোতে বাস চলেছে। স্কুল-কলেজও ছিল খোলা। নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরের পরিচালক বাবুলাল জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লা রুটে স্বাভাবিক দিনের মতো গতকালও প্রায় ৬০টি লঞ্চ চলেছে। জেলার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা জানান, নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে দেশের অন্য জেলাগুলোর রেল চলাচল মঙ্গলবার ছিল খুবই স্বাভাবিক।

আমাদের বরিশাল প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধের প্রথম দিনগুলোতে শহরে ছিল সুনসান নীরবতা। কিন্তু অবরোধ যত বাড়ছিল, নীরবতাও ততই ভাঙছিল। গতকাল বরিশাল শহরের প্রাণচাঞ্চল্য দেখে অবরোধ চলছে- এমনটা মনে করা কঠিন ছিল। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যানচলাচল ছিল স্বাভাবিক। অবরোধে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে থাকা জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সর্বশেষ গত রবিবার শহরের বাইরে কেবল একটি মিছিল করতে দেখা গেছে। ফলে মানুষের মন থেকে ভয় ও আতঙ্ক কেটে গেছে। তবে বরিশাল থেকে দূরপাল্লার গাড়িগুলো গতকাল না ছাড়লেও ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চচলাচল ছিল খুবই স্বাভাবিক।

আমাদের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অবরোধের প্রথম দিনগুলোতে শহরের ভেতরে যান ও জনচলাচল ছিল খুবই কম। গতকাল শহরে তেমন ভুতুড়ে দৃশ্য আর চোখে পড়েনি। মৌলভীবাজার থেকে সিলেটসহ পাশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে মিনিবাস যেমন ছেড়ে গেছে, তেমন পাশের জেলাগুলো থেকেও এসেছে। তবে দামি ও বড় বাসগুলো এখনো যাতায়াত শুরু করেনি।

৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিনে শান্ত সারা দেশ : নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকে দেশব্যাপী আবারও শুরু হয়েছে টানা ৭২ ঘণ্টার রাজপথ, নৌপথ ও রেলপথ অবরোধ। অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারা দেশের পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই শান্ত। অবরোধকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া কোথাও তেমন কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে।

রাজধানীর চিত্র : অবরোধের প্রথম দিন রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। সন্ধ্যায় রমনা থানাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গেটের সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক পর পর দুটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। একই সময় পল্টনে ককটেল বিস্ফোরণ ও দুটি বাস ভাঙচুর করে পিকেটাররা। রাত ১০টার দিকে রাজাবাজার এলাকায় একটি অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে পুলিশ এসে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিকেলে ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম মুর্তজা অন্তু নামে এক আইনজীবীকে আটক করে পুলিশ।

এ ছাড়া পল্টন, রামপুরার বৌবাজার ও মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেল ফাটায়। পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় বিকেলে পাঁচটি ককটেল ফাটায় পিকেটাররা। এসব ঘটনায় পাঁচ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সামনে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে পিটুনি দেয় জনতা। এসব ঘটনা ছাড়া রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্ত।

রাজধানীর বাইরের চিত্র : সিলেট পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সভাপতি ও মহানগর ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈকত চন্দ্র রিমিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রশিবিরকর্মীরা। গতকাল দুপুরে ইনস্টিটিউটের সামনেই রিমির ওপর হামলা চালায় তারা। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত রিমির বরাত দিয়ে তাঁর বন্ধুরা জানান, ইনস্টিটিউটের সামনের একটি দোকানে বসে রিমি গল্প করছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে ১০ জন শিবিরকর্মী এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলাকারীরা তাঁর হাত-পা, পিঠ ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও তাঁর বন্ধুরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিমিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

মাগুরা সদর থানা ফটকে গতকাল রাতে মোটরসাইকেলযোগে দুই যুবক এসে দুটি ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

যশোরের ঝিকরগাছায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে গতকাল সকালে মহাসড়ক অবরোধকালে উপজেলা জামায়াতের আমির আরশাদুল আলমকে আটক করেছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের লাঠিপেটায় আহত হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের ১০ নেতা-কর্মী।

চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় গতকাল দুপুরে রেলের ফিসপ্লেট খুলে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে কয়েকটি শিশু এলাকাবাসীকে জানায়। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রেলের লোকজন এসে লাইন মেরামত করে। এতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মেঘনা এক্সপ্রেস।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গতকাল ভোরে উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও তারাব পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের বরাব এলাকার কার্যালয়ের জানালা দিয়ে পেট্রল ছুড়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে ভেতরের আসবাব পুড়ে যায়। এ ছাড়া সকালে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা।

মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বানিয়াজুরী এলাকায় গতকাল ভোরে গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে পানবোঝাই একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বরিশালের লাকুটিয়ায় গতকাল সকালে মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে গাছের গুঁড়িতে আগুন দিয়েছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। বরিশাল নগরী থেকে কোতোয়ালি যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম মোল্লাসহ ১৮ দলীয় জোটের সাত নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

সন্ধ্যার পর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুর এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে অবরোধকারীরা। ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে আটকে পড়ার পর যানবাহনগুলো পুলিশ পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এ ছাড়া পলাশবাড়ী সদরের সাথী সিনেমা হলের সামনে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আরা বেগম রিক্তার ছেলে আপেল মাহমুদের (৩২) ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁর মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে বগুড়ায় পাঠানো হয়। পলাশবাড়ী থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাতে মংলা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুর রহমানের বাড়িতে পেট্রলবোমা ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। বোমাটি তাঁর ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরিত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

******************************
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

KALERKONTHOlogo

About Ehsan Abdullah

An aware citizen..
This entry was posted in CHALLENGES, CURRENT ISSUES, DEFENCE & SECURITY. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s